
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) কায়িক পরীক্ষায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আমদানির অভিযোগে চাঞ্চল্যকর একটি পণ্যচালান শনাক্ত হয়েছে। একটি কনটেইনারে থাকা দুটি বিল অব লেডিং (B/L) পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ তামাক ও তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, Container No. DFSU6753849-এ থাকা দুটি B/L পরীক্ষা করে এসব পণ্য শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি চালানে পণ্য হিসেবে “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)” এবং অপরটিতে “PRINTED PAPER CATALOGUE” ঘোষণা করা হয়েছিল।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কাগজপত্রে Authoy Enterprise-কে আমদানিকারক বা Consignee হিসেবে দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত। এমনকি চালানটির সঙ্গে তাঁদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে। প্রকৃত আমদানিকারক বা এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
কাস্টমস নথি থেকে জানা যায়, Manifest No. 4524/2026 ও Voyage No. 011-এর আওতায় MV UDDIPON EXPRESS জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই Master B/L 301174347-এর অধীনে দুটি House B/L-এর মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।
৮.২৫ টন তামাক ও সন্দেহজনক পাউডার
প্রথম House B/L ISLCCU2627CGP095-এ পণ্য হিসেবে “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)” ঘোষণা করা হয়। নথিতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮,৯৭৪ কেজি উল্লেখ ছিল।
তবে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮,২৫০.৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৮.২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে Dark Brown ৪২১ প্যাকেজে ৭,৩২৫.৪ কেজি, Brown ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, Grey ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং White ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও রয়েছে, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এসব পদার্থে প্রকৃতপক্ষে কোনো মাদকদ্রব্য বা নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।
‘Printed Paper Catalogue’-এর বদলে ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার
অপর House B/L ISLCCU2627CGP096-এ পণ্য হিসেবে “PRINTED PAPER CATALOGUE” ঘোষণা করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতে ১,৫৭০ প্যাকেজের Gross Weight ৯,৮৫৯.৬০ কেজি উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক ১,৫৭০ প্যাকেজে ৯,২৬৩ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৯.২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক Scrap Paper পাওয়া যায়। ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে গুরুতর অসামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে এসেছে।
দুটি House B/L মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২,০৪০ প্যাকেজে ১৭,৫১৩.৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১৭.৫১ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮.২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯.২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।
চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃত পরিচয়, ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যের কারণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)




















