
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
হাওরবেষ্টিত জনপদে বেড়ে ওঠা মানুষের জীবনে প্রতিকূলতা যেন নিত্যসঙ্গী। বর্ষায় নৌকা, গ্রীষ্মে পায়ে হাঁটা—এভাবেই জীবনের পথ পাড়ি দিয়ে অনেকেই স্বপ্নের কাছে পৌঁছান। তেমনই একজন মধ্যনগর উপজেলার ২ নম্বর দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের সন্তান শফিকুল ইসলাম সোহাগ। শৈশবের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে শিক্ষা, কর্মজীবন ও সৃজনশীলতার জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।
গ্রামের মেঠোপথ, হাওরের জল আর প্রতিকূল পরিবেশকে সঙ্গী করেই সোহাগের শিক্ষাজীবনের শুরু। বর্ষাকালে নৌকায় এবং গ্রীষ্মে দীর্ঘ পথ হেঁটে তিনি বিশরপাশা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকের জন্য পাড়ি জমান সিলেটে। উচ্চশিক্ষার পথও থেমে থাকেনি সেখানে; বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি।
বর্তমানে শফিকুল ইসলাম সোহাগ একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। পাশাপাশি কবিতা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিজের সৃজনশীল প্রতিভারও বিকাশ ঘটিয়ে চলেছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। কর্মজীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা তাঁকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়।
সোহাগের এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; হাওরপাড়ের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীও যে অধ্যবসায়, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে জাতীয় পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন—তাঁর জীবন তারই একটি উদাহরণ।
একই শিকড়ের দুই পথিক
শফিকুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে একই সময়ের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি রয়েছে সারোয়ার জাহানেরও। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সূত্রে গড়ে ওঠা সেই পরিচয় সময়ের সঙ্গে ভিন্ন পথে এগোলেও স্মৃতির বন্ধন অটুট রয়েছে।
জীবনের প্রয়োজনে দুজনের পথ আলাদা হয়েছে। একজন কর্মজীবনে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, অন্যজন নিজস্ব পেশা ও সৃজনশীলতার জগতে এগিয়ে চলেছেন। তবে শৈশব-কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলো আজও তাঁদের একই শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।
মধ্যনগরের মানুষের কাছে শফিকুল ইসলাম সোহাগ এখন সম্ভাবনা ও অর্জনের একটি পরিচিত নাম। প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল থেকে উঠে এসে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও রয়েছে গর্ব ও প্রত্যাশা।
সোহাগের এই পথচলা যেন বলে—প্রতিবন্ধকতা কখনো স্বপ্নের শেষ কথা নয়। দৃঢ় সংকল্প, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে হাওরের দুর্গম পথ পেরিয়েও পৌঁছানো যায় সাফল্যের কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।













