
মেহেদী হাসান বাবু, ব্যুরো প্রধান, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। সোমবার রাতে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর মন্দুয়ার গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় শাহীন সরকারকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, জিপসাম ও পটাশ। এসব সারের আনুমানিক মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্যাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, সোমবার রাতে উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহীন সরকার (৬০) বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি উত্তর মন্দুয়ার গ্রামের মৃত বদিউজ্জামান সরকারের ছেলে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত রাখা সারগুলো জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ইউরিয়া ১৩ বস্তা, জিপসাম ২৮ বস্তা, ডিএপি ১৬ বস্তা, টিএসপি ১৩ বস্তা এবং পটাশ ২ বস্তা রয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা হয়েছে ৭২ বস্তা সার।
এদিকে সারের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে অবৈধভাবে মজুত কিংবা বেশি দামে বিক্রি না হয়, সে জন্য বাজার ও গুদামে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সার অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীন সরকার। তিনি বলেন, “আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা সার বিক্রি কিংবা মজুত করার জন্য নয়। রোপা আমন ক্ষেতে প্রয়োগের জন্য এসব সার রাখা হয়েছিল।”
সাদুল্যাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, “কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কেউ অবৈধভাবে মজুত বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় শাহীন সরকারকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
















