
রাজীব আহসান মান্নু, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ভুয়া টেকনোলজিস্ট দিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে এ কার্যক্রম চলায় রোগীরা ভুল রিপোর্ট পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে কোনো সার্টিফাইড বা ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট নেই। নামমাত্র বেতনে আনাড়ি নাছির উদ্দিন ও মালিকপক্ষের কাইয়ুম মোল্লা নামের দুই ব্যক্তি এক্স-রে এবং ল্যাবে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন জটিল প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করছেন বলে দেখা যায়।
তবে তাদের কারও বৈধ সনদপত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নাছির উদ্দিন প্যাথলজিস্টের প্যাডে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া রিপোর্ট প্রিন্ট করে রোগীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসকরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং রোগীরা ভুল ওষুধ ও চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। এতে সাধারণ রোগীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে প্রায়ই এ ধরনের ভুয়া ল্যাব ও টেকনোলজিস্ট ধরা পড়লেও কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী মনিটরিংয়ের অভাবে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার জন্য উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাইয়ুম মোল্লা সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে বিরত রাখার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নাছির উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তো নিদিশা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিতে তিন বছর কোর্স করেছি। সেখান থেকে আমাকে যদি ভুয়া সনদ দেওয়া হয়, তাহলে তো আর আমার কিছু বলার নেই। আমি নিজেও জানতাম না তাদের প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া।”
কাইয়ুম মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সনদ দেওয়ার সময় আমাকে মৌখিকভাবে বলে দিয়েছে, আপনি এক্স-রে করতে পারবেন। তাই আমি এক্স-রে করি।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসমত জাহান ভূঁইয়া বলেন, “যদি উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনোলজিস্ট ভুয়া হয়ে থাকে, বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনে কাগজপত্র দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।”
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাইসেন্সধারী ও দক্ষ টেকনোলজিস্ট নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরা।



















