
সাজিদুর রহমান, বাহুবল, হবিগঞ্জঃ
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন দেড় মাসেও মেরামত করা হয়নি। এরই মধ্যে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙনস্থল দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে লস্করপুর ইউনিয়নসহ বাহুবল উপজেলার কয়েকটি গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের ভাঙন মেরামত না হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনের পাইপ জব্দ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ফের ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ
সরেজমিনে জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে খোয়াই নদীর বাঁধের ভাঙনস্থলে ফের ভাঙন দেখা দেয়। এর আগে শনিবার রাতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে ভাঙনস্থল দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
এতে এলাকার ফসলি জমি ও মৌসুমি ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দেড় মাস আগের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের বন্যার কবলে পড়েছেন ১০–১২ গ্রামের মানুষ। এতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপরে পানি
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কালীগঞ্জ এলাকায় ভাঙনস্থলে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে কালীগঞ্জ-রামনগর-আধ্যপাশা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীর তীর ও বাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনের পাইপ জব্দ করা হয়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাঁধের ভাঙন মেরামত এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।















