এম এম এ রেজা পহেল, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ও বাজার জামে মসজিদের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার পাশে অপরিকল্পিতভাবে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ময়লার স্তূপ বড় হচ্ছে। বৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ আরও নোংরা হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের সামনের ময়লার স্তূপ থেকে কয়েক হাত দূরেই রয়েছে বাদশাগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ। একই রাস্তা দিয়ে বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে ময়লা ফেলে রাখায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন রশীদ বলেন, “এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সরু। এ রাস্তা দিয়ে আমার স্কুলের বাচ্চাদের পাশাপাশি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী, কয়েক হাত দূরের মসজিদের মুসল্লি এবং পথচারীরা যাতায়াত করেন। ময়লার দুর্গন্ধে বমি আসার উপক্রম হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্কুলের সরু রাস্তার গেটের সামনে একটি অটোস্ট্যান্ড রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিরসনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বণিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “স্কুল ও মসজিদের সামনে এভাবে ময়লা ফেলার কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ করা যাবে না। বাজার মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ময়লা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বাজারের ভেতরে ময়লা না ফেলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিদ্যালয় ও মসজিদের সামনের ময়লার স্তূপ অপসারণ করে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের গেটের সামনে থাকা অটোস্ট্যান্ডের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।













