
রানা খান, নেত্রকোনা:
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের বাদাউরা গ্রামের একটি ছোট্ট মসজিদকে ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় এক ইমাম। এলাকার কিশোর, তরুণ ও শিশুদের নিয়মিত নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে তিনি আয়োজন করেন ৪০ দিনের নামাজ প্রতিযোগিতা। এ উদ্যোগে অংশ নিয়ে অনেকেই নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গ্রামের মসজিদের ইমাম এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ৪০ দিনে সবচেয়ে বেশি জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, তাদের জন্য রাখা হয় বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার। পুরস্কারের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নামাজের প্রতি আগ্রহ এবং নিয়মিত মসজিদে আসার অভ্যাস তৈরি করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতা শেষে সর্বাধিক নামাজ আদায়কারী বিজয়ীদের হাতে পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজয়ীদের অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় একটি করে টুপি। এতে বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তাদের পরিবারেও আনন্দের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলেও নামাজ আদায়ের মতো ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়ে শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন খুব বেশি দেখা যায় না। ৪০ দিনের এ প্রতিযোগিতার কারণে গ্রামের অনেক ছেলে নিয়মিত নামাজ পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়েছে। আগে যারা অনিয়মিতভাবে নামাজ পড়ত, তাদের অনেকেই এখন নিয়মিত মসজিদমুখী হচ্ছে।
একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রতিযোগিতার কারণে তারা নিয়মিত মসজিদে যাচ্ছে এবং নামাজ আদায়ের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও বাড়বে।’
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু বাদাউরা নয়, আশপাশের অন্যান্য গ্রাম ও মসজিদেও শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি উৎসাহিত করতে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হবে। তাদের মতে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তৈরি হওয়া আগ্রহকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিশু-কিশোরদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতে পুরস্কারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতাও প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন একটি ছোট্ট গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য এলাকার জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে।




















