
আহসান হাবীব শিপলু,বদলগাছী প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে আলু সংরক্ষণকারী কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কৃষকের অভিযোগ, ৫০ কেজি ওজনের বীজ আলুর প্রতি বস্তার জন্য ৪২৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় প্রতি বস্তায় ১২৫ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এবং কোল্ড স্টোরেজের ডেলিভারি রশিদ পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের মূল্য ৬ টাকা হলে ৫০ কেজির এক বস্তার ভাড়া হওয়ার কথা ৩০০ টাকা। কিন্তু ডেলিভারির সময় প্রতি বস্তার জন্য ৪২৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ফলে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ১২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।
কোল্ড স্টোরেজের ডেলিভারি রশিদ অনুযায়ী, রাজপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হাকিমের কাছ থেকে ৯ বস্তা আলুর ভাড়া আদায় করা হয়েছে। চাঁপাডাল গ্রামের কৃষক রানা ৫০ কেজি ওজনের ১০৯ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন। তাঁর কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৪২৫ টাকা হিসাবে মোট ৪৬ হাজার ৩২৫ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে রশিদে উল্লেখ রয়েছে। এ সংক্রান্ত রশিদের নম্বর ৩২৭১৫।
এ ছাড়া শিমুলিয়া দরগাহ তলা গ্রামের কৃষক হরিপদ ৫০ কেজি ওজনের পাঁচ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন। তাঁর ডেলিভারি রশিদে (রশিদ নম্বর ৩২৭১) বস্তাপ্রতি ৪২৫ টাকা হিসাবে মোট ২ হাজার ১২৫ টাকা ভাড়া আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। একই অভিযোগ করেছেন কৃষক এনামুল হক। তিনি সাত বস্তা বীজ আলু সংরক্ষণ করেছেন বলে জানা গেছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক কৃষক জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ অক্টোবর ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে বলেও জানান অভিযোগকারী কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে তাদের সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বীজ আলু সংরক্ষণে বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী কৃষকরা।
এ বিষয়ে উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা। বীজ আলু সংরক্ষণে সরকারি নির্ধারিত ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা হলেও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নির্ধারিত কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা হারে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তবে ৫০ কেজি লেখা বস্তার জন্য ৪২৫ টাকা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফারহানা হক দাবি করেন, বাস্তবে অনেক বস্তায় ৬০ থেকে ৬৮ কেজি পর্যন্ত আলু থাকে। এ কারণেই ভাড়ার পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে কৃষকদের প্রশ্ন, কোল্ড স্টোরেজের রশিদে যেখানে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ভিত্তি কী। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, নওগাঁর কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, “সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ৬ টাকা। এর বেশি কেউ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোল্ড স্টোরেজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।


















