টেকনাফ প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের পর আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যলাইন দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইন এলাকায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে ২৪ জেলেকে গ্রহণ করে। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে জেলেদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের কার্যক্রম চলছে।
বিজিবি জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এসব জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। পরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের আটকে রাখা হয়।
আটক জেলেদের পরিবারের উদ্বেগ ও মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবার ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের পরিবারে এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে এখনও আটক থাকা অন্য জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—বিজিবি মহাপরিচালকের এই ভিশন বাস্তবায়নে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।





