
সাজিদুর রহমান,বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৯ সালের জুনে কার্যাদেশ পাওয়ার পর মেসার্স মঈনউদ্দীন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু মেসার্স মঈনউদ্দীন এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। ধীরগতির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের মাত্র ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। এরপর তারা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
পরবর্তীতে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে হেমায়েত হোসেন নামে এক ঠিকাদার প্রকল্পটির বাকি কাজের দায়িত্ব নেন। তবে দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা এবং বর্তমানে কাজের গতি ধীর হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ বলেন, কাজের গতি কিছুটা শ্লথ রয়েছে। কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে প্রকল্পটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
এর আগে কী কারণে কাজ বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে কাজের যথাযথ তদারকি হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ বলেন, “আমি এখানে এসেছি তিন-চার মাস। বিস্তারিত না জেনে বলা সম্ভব না।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনার নির্মাণকাজে মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। নির্মাণের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং কাজের পরিমাপ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।
তাদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কাজের মান ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ পরিচালনা করছেন। নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে হেমায়েত হোসেন বলেন, কিছু শ্রমিক ছুটিতে ছিলেন। কয়েকজন ইতোমধ্যে কাজে ফিরেছেন। অন্য শ্রমিকরাও ফিরে এলে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও এসব মসজিদে নিয়মিত নামাজও আদায় করছেন মুসল্লিরা। অথচ বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সাত বছর ধরে চললেও কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পটির চূড়ান্ত হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


















