
আতিকুর রহমান রুমন ,বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | ৩ অক্টোবর ২০২৬ইং
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক ইউপি সদস্যার বাড়িতে পুলিশের অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যা ও ওই বাড়ির গৃহকর্তী দোলেনা বেগমকে আটক না করায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের রায়ের পাড়া এলাকায় ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই হাদিউল মিয়াসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমকে আটক করা হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দোলেনা বেগমের বাড়িতে বিভিন্ন এলাকার নারী ও পুরুষের যাতায়াত ছিল। তাদের দাবি, সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় অভিযোগও জানানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমন কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার পরিবেশ ও যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অভিযান চলাকালে বাড়িটির আশপাশে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হন। পরে পুলিশ আটক দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়। তবে ইউপি সদস্যাকে আটক না করায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্যাকে আটক না করার পেছনে আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী এসআই হাদিউল মিয়া দুইজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তখনও মামলা রুজু হয়নি। পরদিন রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। তবে ওই সময় একটি দরবারে ব্যস্ত থাকায় আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য দেওয়ার কথা জানালেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত তিনি কোনো তথ্য দেননি।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে সরকারি মুঠোফোন নম্বর ও মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সিভিল প্রশাসনের দায়িত্ব পালনকারী এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আটক যুবক-যুবতীর স্বজনরা তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন এবং এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমকে আটক না করার বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ইউপি সদস্যার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


















