
আহসান হাবীব শিপলু
বদলগাছী প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রায়ই বদলগাছী উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—গোরশাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাউদপুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাইজাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিলাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়জাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটগারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটশাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাদাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গন্ধর্বপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজপুরপাচঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দা ভেরেন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রুকুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসমাইলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটকবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুধকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুরচকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেগুনজোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৈকুন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিঞুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটনঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভরট্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রধানকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গন্ধর্বপুর ভেরেন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারাতৈইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাড়োরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোহাসাসুর্যমুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইন্দ্রশগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষীকোল আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগৎনগরকলকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামশাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সত্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপাডাল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পয়নাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলারপালশা পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্রাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোমারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তররামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকনরসিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তররাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোকশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটকাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরসাদিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চমচমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরমালঞ্চা ও রানাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চকবোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চকবোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া নালুকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়েও মামলা চলমান রয়েছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পড়ছে। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ ও শিক্ষা অফিসে যাতায়াতের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।



















