
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মগড়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধকাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়টির সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়সংলগ্ন ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মগড়া নদীর তীর রক্ষায় শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদীর স্রোত ও ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রতিরোধমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় একসঙ্গে চলছে বিভিন্ন ধরনের কর্মযজ্ঞ। কাজের অগ্রগতি দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার অংশে জরুরি ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বর্ষা মৌসুমে মগড়া নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ও ওয়াশরুম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্পের তদারককারী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাক্কলন অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। কাজের অগ্রগতিতে আমি সন্তুষ্ট।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, “নদীভাঙন রোধে এর আগে একবার দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু সীমিত বরাদ্দে কার্যকরভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এবার যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে আশা করছি বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।”
কাজ সংশ্লিষ্ট উজ্জ্বল তালুকদার বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের মান ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুন্দরভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মগড়া নদীর ভাঙনে বিদ্যালয়টি ঝুঁকির মধ্যে ছিল। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ত। ইতোমধ্যে ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ও ওয়াশরুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
এখন বিদ্যালয় রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধকাজ শুরু হওয়ায় সেই শঙ্কা অনেকটাই কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রকল্পের প্রাক্কলন ও নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মগড়া নদীর ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের আতঙ্কও কমে আসবে।



















