
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শিল্প গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে ১২টি অগ্রণী গবেষণা প্রকল্পে ২১ কোটি টাকার বেশি ‘বার্ডি’ অনুদান দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে আয়োজিত অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদান তুলে দেন অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (SICIP) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বার্ডি অনুদানের প্রথম দফায় ওষুধ, বস্ত্র, কৃষি, বৈদ্যুতিক গতিশীলতা, ইলেকট্রনিক্স ও জ্বালানি খাতের ১২টি গবেষণা প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব প্রকল্পে বাস্তব শিল্প সমস্যার সমাধানে গবেষণা দল ও শিল্প অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করবে।
অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত কাপড় পরিদর্শন, পানি সাশ্রয়ী স্মার্ট ডাইং প্রযুক্তি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভ্যাকসিন-গ্রেড এনজাইম, সৌরশক্তিচালিত কোল্ড স্টোরেজ এবং দেশের প্রথম ওপেন-সোর্স চিপ ডিজাইন উদ্যোগ।
কঠোর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ১২৩টি আগ্রহপত্রের মধ্যে ৩৩টি দল বিস্তারিত আবেদন পর্যায়ের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। পরে শিক্ষাঙ্গন, শিল্প ও সরকার থেকে আসা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মেধার বিচারে ১২টি দল নির্বাচিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ আয়োজন শুধু অনুদানপত্র হস্তান্তরের অনুষ্ঠান নয়; এর মাধ্যমে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও দেশের মানুষের মেধার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থ বিভাগ গবেষণা ও উন্নয়নকে ব্যয় হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এই বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং তরুণদের জন্য উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আজকের ১২টি প্রকল্পের মাধ্যমে বার্ডি যাত্রা শুরু করেছে এবং এ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ও SICIP-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় অর্থ বিভাগের উদ্যোগ ‘বার্ডি গ্রান্টস’-এর লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় দক্ষতা ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বাস্তবসম্মত ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সমাধানকে উৎসাহিত করা।
এডিবি বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি কর্মসূচির উদ্দেশ্য এবং দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
SICIP-এর অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান সফল করার জন্য তিনি অতিথি, অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এডিবির সহায়তায় ‘শিল্প প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের জন্য দক্ষতা কর্মসূচি’ (SICIP) বাস্তবায়ন করছে। শিল্প-নেতৃত্বাধীন দক্ষতা উন্নয়ন ও সহযোগিতামূলক শিল্প উদ্যোগের পাশাপাশি বার্ডি অনুদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মশক্তি গড়ে তোলা এবং একটি বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনভিত্তিক বাংলাদেশের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে কর্মসূচিটি।
















