
এম এম এ রেজা পহেল, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কসংলগ্ন এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মো. তোফাজ্জ্বল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা পরিচালনা করেন মো. মোখলেসুর রহমান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইসতিয়াক হোসেন চৌধুরী স্বপন, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তাহের সোনা মিয়া, সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক খায়রুল বশর ঠাকুর খান, নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহম্মদ আলী, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রতন মেম্বার, নিহতের মামা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার এবং নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ফজলুল হক প্রমুখ।
নিহত ফজলুর রহিম কাজলের বয়স ছিল ৫৫ বছর। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন ফজলুর রহিম কাজল। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতে তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল।
ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।




















