
এম এম এ রেজা পহেল, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের পাশে মনাই নদীর ওপর নির্মিত সুনই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্তে পড়ে প্রায়ই মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক, অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের দুই পাশে গর্ত থাকলেও স্থায়ীভাবে মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এসব গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
২০১৩ সালে নির্মিত হয় সুনই সেতু। একসময় মধ্যনগর উপজেলা ধর্মপাশা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাওরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে মধ্যনগরকে পৃথক উপজেলা করা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই নিকারের ১১৭তম সভায় উপজেলা হিসেবে অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মধ্যনগর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুনই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিস্তীর্ণ হাওর-বাঁওড় ও গারো পাহাড়ের পাদদেশের জনপদের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা এ পথ ব্যবহার করেন।
এ ছাড়া ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের পাশের উপজেলা তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুলবাগান, লাউড়েরগড় ও টেকেরঘাটসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়ক গুরুত্বপূর্ণ। এসব পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। ফলে সেতুর সংযোগ সড়কের গর্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ধর্মপাশা-সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলায় হস্তান্তর করা হয়। তাঁদের দাবি, নেত্রকোনা অঞ্চলের কিছু সড়কে একাধিকবার সংস্কারকাজ করা হলেও তাঁদের এলাকার সড়কের সংস্কারে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
সুনই গ্রামের বাসিন্দা ও গাছতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. সাদেক খান পাটান বলেন, সুনই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের গর্তগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সেতু ও সংযোগ সড়কের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং রাতের বেলায় দৃশ্যমান চিহ্নের ব্যবস্থা নিতে হবে। হাওরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এ সড়কের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস ফারুক বলেন, সেতুর দুই পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুনই সেতুর সংযোগ সড়কের গর্ত সংস্কার করা হয় কি না।




















