
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার নওগাঁঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক জনি আক্তার (২৯) লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করে ছাড়া পেয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
লিখিত আপোষনামা সূত্রে জানা যায়, জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা নেন। পরবর্তীতে তাদের ভাতার কার্ড করে দিতে না পারায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ বিষয়ে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন জনি আক্তার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে ভুক্তভোগীরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জনি আক্তার উপজেলার ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মোট ১৩ জনের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেন জনি আক্তার। তাদের কার্ড করে দিতে ব্যর্থ হলে সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান জনি আক্তার। পরে গত ২০ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এ সময় তাদের মধ্যে তিনজনকে ভুয়া প্রতিবন্ধী কার্ড দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে জনি আক্তার ভুক্তভোগীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং টাকা ফেরত দেবেন না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় তহমিনা ও রেনুকা বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তার জুঁইকে আটক করে থানা পুলিশ।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জনি আক্তার। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, তার দেবরের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। এ কারণে তিনি চক্রান্ত করে ওই মেয়েদের দিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছেন। তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন।
বক্তব্য নেওয়ার পর সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে কল করে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি ‘আমিও দল করি’ বলেও মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, আটকের পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে জনি আক্তার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
















