
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার একটি প্রিভেন্টিভ টিম গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরে অবস্থিত Virgo Tobacco Ltd.-এ আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির রক্ষিত বিভিন্ন দলিলাদি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক গণনায় অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি রক্ষিত দলিলাদি ঠিক রেখে অভিনব পদ্ধতিতে রাজস্ব ফাঁকির কৌশল অবলম্বন করে আসছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।
ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি টিম একযোগে সিগারেট কারখানা এবং কাছাকাছি আরেকটি গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে দেয়াল টপকে গোয়েন্দা দলের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে সিগারেট উৎপাদন দেখতে পান।
গোয়েন্দা দল কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পায়। পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি উপস্থাপন করতে বলা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তা দেখানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে কারখানা এবং তৎসংলগ্ন গুদাম ও আবাসিক ভবন থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।
মূসক গোয়েন্দার আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে। প্রাপ্ত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের ভ্যাট চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এসব তথ্য তাদের মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৭/২০২৬ এবং তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা-এর অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।














