
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান। একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জনি রায়।
সভায় বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির পাশাপাশি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল, মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহাবুদ্দিন শাহীন পিপিএম, মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জীব রঞ্জন তালুকদার (টিটু), উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিসবাহ, মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মান্নান, খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাসেদ আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম শহীদ, জামায়াতে ইসলামী মধ্যনগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু তাহের এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মধ্যনগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি লেখাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মাদক, জুয়া ও নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষতিকর দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে বিদ্যালয়ের বাগানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজ হাতে গাছ রোপণ করেন জেলা প্রশাসক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টাঙ্গুয়ার হাওর প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ৯ হাজার ৭৪৭ হেক্টর এলাকা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ECA)-এর অন্তর্ভুক্ত। হাওরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এসব বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। পর্যটকদেরও নিষিদ্ধ এলাকায় বিভিন্ন যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে প্রবেশ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময় মধ্যনগর উপজেলায় একজন স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থায়ী একজন এসিল্যান্ড নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করছেন।



















