
মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আল-নূর হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যুর অভিযোগে বিভিন্ন ফেসবুক ও অনলাইন পেজে পোস্ট করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি অ্যান্ড অবস) ডা. মোসাম্মৎ ফারজানা খন্দকারকে। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মহসিন বিন সুলতান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিওলজি) ডা. আবু মুহাম্মদ হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. সালমা আখতার এবং মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান মাহমুদ পাটোয়ারী।
কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চৌদ্দগ্রামের খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়ার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন স্বজনরা।
তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগে। পরে প্রসূতিকে কুমিল্লা শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. কেয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছিলেন। তবে রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে ডা. কেয়ার একটি মন্তব্য ঘিরেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।”
তার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।9p
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় ডা. কেয়ার তত্ত্বাবধানে নবজাতকের মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। হাসপাতাল ও ডাক্তারের দায় নিরূপণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।





















