
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার আরও দক্ষ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং নাগরিক সেবা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘Strategic Use of AI Tools & Cyber Security for PMO Officials’ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এর ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি এআইনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রশাসন হবে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব।
তিনি বলেন, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব শুরু হয়েছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে।
তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তুলতে পারে। বর্তমানে তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের গতি বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রযুক্তি মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না। বরং এআই প্রজ্ঞাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগের ওপর। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান শ্রমসাধ্য সরকারি কাজ সহজ করার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হবে উল্লেখ করে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এ পরিবর্তনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারে কিছু প্রচলিত বা রুটিন কাজের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। এজন্য কর্মকর্তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল দক্ষতা ও তথ্য বিশ্লেষণের বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ‘হিউম্যান-এআই’ সহযোগিতা বাড়ানোই ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত কাজ করছে।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা কম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বাকি সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন।
এ লক্ষ্যেই এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।













