
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার নওগাঁ:
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তল্লাশির পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মান্দা থানাধীন পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটকরা হলেন—দিনাজপুরের বিরামপুর থানার চাপড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে এনামুল হক (৩২) এবং ফুলবাড়ী থানার মুক্তারপুর গ্রামের ইউসুফ খলিফার ছেলে মাহবুব হাসান ওরফে মুন্না (৩৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে মাদক রয়েছে—এমন অভিযোগের কথা বলে অভিযুক্তরা বিপুল কুমারের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও চাচা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে বিপুল কুমারের স্ত্রী, মা ও শাশুড়িকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরের শোকেসে থাকা আনুমানিক ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫৬ হাজার টাকা নিয়ে তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিপুল কুমারসহ স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করেন। পরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পাশের বাগমারা থানাধীন সিমলা বাজার এলাকায় গিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতা তাদের মারধর করে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আটক তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল, হ্যান্ডকাফ, মোবাইল ফোন এবং লুটকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিপুল কুমার জানান, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বাড়িতে মাদক থাকার কথা বলে তল্লাশি চালান। এ সময় তারা ঘরের শোকেসে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী তিনজন প্রতারক ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বা ওই প্রতারক চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না।


















