
সাজিদুর রহমান -বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মুসলিম তরুণীদের সঙ্গে কথিত ‘লাভ ট্র্যাপ’ এবং ইসকন-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি ঘিরে উপজেলা জুড়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে জে.পি. পিয়াল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা, মুসলিম ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন বাহুবল উপজেলার ওলামায়ে কেরাম।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাহুবল উপজেলা খাদিমুল কোরআন পরিষদের নেতৃবৃন্দ মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন দাবি জানান। জে.পি. পিয়াল বিশ্বাস উপজেলার লামা পুটিজুরী গ্রামের প্রবাসী বাবুল কুমার বিশ্বাসের ছেলে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ইসকন সদস্য পরিচয়ধারী জে.পি. পিয়াল নামের ওই যুবক মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের মুসলিম ছাত্রীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাভ ট্র্যাপ’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি সংবলিত পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন তালুকদার জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বাহুবল খাদিমুল কোরআন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই বাহুবলী জানান, চলমান ইস্যুতে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এ সময় খাদিমুল কোরআন পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি পেশ করা হয়।
চার দফা দাবিগুলো হলো—
১. মিরপুর আলিফ সোবহান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র পিয়ালকে বাহুবলবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।
২. নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পিয়ালকে দ্রুত বহিষ্কার করতে হবে।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য শালীন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. যেসব ছাত্রীকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মাওলানা আব্দুল হাই বাহুবলী আরও জানান, কলেজ অধ্যক্ষ হোসাইন আহমদ দাবিগুলো যথার্থভাবে মূল্যায়ন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়ে দাবিগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আগামীকালের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ কামরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান সালিম, মুফতি লোকমান আহমদ, কাজী মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা হাফিজুর রহমানসহ তরুণ ওলামায়ে কেরাম।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ হোসাইন আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


















