
আকিকুর রহমান রুমন, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে তোফাজ্জল হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হাতকড়াসহ তাঁর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আসামিকে গ্রেফতারের আগেই তিনি পালিয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পালিয়ে যাওয়ার পর হাতকড়াটি উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও এলাকার তোফাজ্জল হত্যা মামলার আসামি জাকির মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য গত ১২ অক্টোবর সোমবার রাতে অভিযান চালায় বানিয়াচং থানা পুলিশ। উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ায় তাঁর বাড়িতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, পুলিশের অভিযানের সময় জাকির মিয়াকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। পরে তাঁকে নিয়ে আসার সময় তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের আরও দাবি, পরে জাকির মিয়ার এক চাচাতো আত্মীয়ের মধ্যস্থতায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয় এবং তা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই আত্মীয় বিএনপির নেতা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন পাড়াগাঁও এলাকার ইউপি সদস্য রুমন মিয়া। তিনি জানান, সোমবার রাতে জাকির মিয়াকে গ্রেফতার করতে তাঁর বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালানোর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে তাঁর দাবি, জাকির মিয়া গ্রেফতারের আগেই পালিয়ে যান। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি শুনেছেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির মিয়া (৪৮) বানিয়াচং উপজেলার বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার মৃত রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি পাড়াগাঁও এলাকার তোফাজ্জল হত্যা মামলার আসামি।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় একটি জলমহালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই জলমহালের লিজগ্রহীতা মৃত মতিউর রহমানের ছেলে তোফাজ্জল মিয়া সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত তোফাজ্জল মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাদিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাত ১টা ২ মিনিটে জানান, পুলিশ জাকির মিয়াকে গ্রেফতারের আগেই তিনি পালিয়ে যান। তাঁর দাবি, হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ওসি আরও জানান, তোফাজ্জল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজন কারাগারে রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতেও পুলিশ কাজ করছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৩টা পর্যন্ত জাকির মিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে আসামিকে গ্রেফতার, হাতকড়া পরানো এবং পরবর্তী সময়ে হাতকড়া উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি ও পুলিশের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
















