
সাজিদুর রহমান, বাহুবল (হবিগঞ্জ):
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ডুবাঐ বাজারে ‘আলম ট্রেডিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ডিলারশিপের আবেদনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সেটিকে সার ডিলার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, খন্দকার খুর্শেদ আলম সুজনের আপন ভাই খন্দকার নুর আলমের মালিকানাধীন ‘আলম ট্রেডিং সেন্টার’ জেলা সার, বীজ ও কীটনাশক খুচরা বিক্রেতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অস্তিত্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন একই বাজারের ‘সিয়াম ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাজাদ মিয়াসহ ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীরা।
সাজাদ মিয়া বলেন, ডিলারশিপের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ব্যাংক চালানসহ যথাযথ নিয়মে কমিটির কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। তাঁদের জানানো হয়েছিল, লটারির মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁদের না জানিয়ে খন্দকার নুর আলম নামে একজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাজাদ মিয়ার দাবি, ডুবাঐ বাজারে ‘আলম ট্রেডিং সেন্টার’ নামে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই।
পুটিজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার মামুনও দাবি করেন, ডুবাঐ বাজারে ‘আলম ট্রেডিং সেন্টার’ নামে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ডুবাঐ বাজার কমিটির সভাপতি শফিক আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, তাঁর জানা মতে, ওই বাজারে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির সভাপতি ও ডিলারশিপের আবেদনকারীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, “ইউএনও মহোদয় বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বৈধ প্রতিষ্ঠানকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে বৈধ বলা হলেও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে এ অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার ঠিকানা, গুদাম এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্প্রতি জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে অনেকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা খন্দকার খুর্শেদ আলম সুজনকে জড়িয়ে ডিলার নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ তুলছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে একটি পক্ষ তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নিজের ভাই খন্দকার নুর আলমের সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউএনও ও তদন্ত কমিটি তাঁকে ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সার ডিলার হিসেবে খন্দকার নুর আলমের মালিকানাধীন ডুবাঐ বাজারের ‘আলম ট্রেডিং সেন্টার’-এর নাম প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।


















