
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহিষখলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সমস্যায় ভুগছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন গ্রাহকরা। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক ব্যবহারকারীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মহিষখলার স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হক রানা বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। আমি একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসিটি-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিষয়টি বাস্তবভাবে অনুভব করি। জরুরি অনলাইন কার্যক্রমও এতে ব্যাহত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের দ্রুত নষ্ট ব্যাকআপ প্যানেল মেরামত বা প্রতিস্থাপন করে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ যেতে পারে, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন না যায়।”
মহিষখলা বাজারের ব্যবসায়ী তন্ময় মিয়া বলেন, “নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনলাইনে বিভিন্ন আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ঠিকমতো করতে পারি না। অনেক সময় ইন্টারনেট না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকে। এমনকি মোবাইল ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় নয়, বিদ্যুৎ থাকা অবস্থাতেও বিভিন্ন সময়ে নেটওয়ার্কের গতি কমে যায়। কল করতে গিয়ে সংযোগ না পাওয়া, কথা বলার সময় কেটে যাওয়া এবং কল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যাও নিয়মিত দেখা দেয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, অনলাইন লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি আবেদন, শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম ও জরুরি যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কাজে এসব সেবার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটররা দ্রুত মহিষখলা বাজারের টাওয়ারটি পরিদর্শন করে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করুক। একই সঙ্গে নষ্ট ব্যাকআপ প্যানেল মেরামত বা প্রতিস্থাপন, পর্যাপ্ত ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং টাওয়ারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও যাতে উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মানুষ জরুরি মোবাইল যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, সে জন্য টাওয়ারের ব্যাকআপ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।




















