
নাদিম হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাবাকে মানসিক রোগী হিসেবে সনদ দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে ছেলে আসাদুজ্জামান টুনুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী বাবা আফজাল বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আফজাল বিশ্বাস বলেন, প্রায় ১৮ মাস আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাঁর দুই জামাতা পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা করান। পরে দ্বিতীয়বার ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে অর্থসংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় চিকিৎসার খরচ জোগাতে জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে তাঁর একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আফজাল বিশ্বাসের অভিযোগ, এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তাঁর ছেলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপন করে চিকিৎসকের কাছ থেকে সনদ সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই সনদ সাব-রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান আফজাল বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, আফজাল বিশ্বাস যখন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তখন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন মর্মে সনদ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে থাকলে তা যাচাই করে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর চাচা ও বোন মিলে একটি চক্র তাঁর বাবার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আফজাল বিশ্বাসের স্ত্রী রুমালি বেগম এবং দুই মেয়ে রেহেনা পারভিন ও মাহমুদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।




















