সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকরাও অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।
সভায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের অগ্রাধিকার। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবিকা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জলমহালের মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে সরকার বিশ্বাসী। জলমহাল ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ইজারা মূল্য যুগোপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় কিশোরগঞ্জ জেলার ১২টি জলমহালের মধ্যে ৯টি, খুলনা জেলার ১২টির মধ্যে ৬টি, হবিগঞ্জ জেলার ৩০টির মধ্যে ২০টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৫৪টি জলমহালের মধ্যে ৪৩টির ইজারা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি, সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ইজারা মূল্য যথাযথ নয়—এমন জলমহালের ক্ষেত্রে পুনঃইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় পাবনা জেলার ২৩টি জলমহাল উন্মুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়।
সভায় মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকরাও অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভায় অংশ নেন।






