নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ২২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ সংস্কৃতি তৈরির অভিযোগ তোলেন তারা।
জামিনে মুক্ত হওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন—আনাস আহমেদ, আবুল হাসান ও মাহমুদুল হাসান মাহিন। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে তারা প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাদের অভিযোগ, গত ২৭ জুলাই রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতারা তাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মারধর করেন। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় তারা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসান বলেন, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। ফলে তার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, ২৭ জুলাই সালাউদ্দিন আম্মারের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তাদের তিনজনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা মামলা করেন। ওই মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পরিকল্পিতভাবে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আবুল হাসান বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ করেছি—এমন কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারলে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাবি ছেড়ে দেব।’ এ সময় তিনি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
অপর শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিন দাবি করেন, তিনি ২০২২ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের মারধর করার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মারধরের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালাউদ্দিন আম্মার নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় ওই তিন শিক্ষার্থীকে পেটানোর কথা বলেছেন।
নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করে তিন শিক্ষার্থী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ‘মব’ সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি পক্ষের প্রভাবের কারণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জিম্মি হয়ে পড়েছে।
তারা আরও দাবি করেন, সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে এর আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে দেখা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হলেও নিজেদের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।
তিন শিক্ষার্থীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।







