
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাতা আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল দিক এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
উপমন্ত্রী মাতাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল পুনরায় চালু করা, ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে আরও ওষুধপত্র আমদানির অনুরোধ, ইন্দোনেশিয়ার কফি, শিম এবং অন্যান্য পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে সহায়তার জন্য জি-টু-জি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ সংগ্রহ, বাংলাদেশের আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা শুরু করা। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রীর কাছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক হস্তান্তর করেন। বিশ্বের বৃহত্তম হালাল খাদ্য ভোক্তা বাজার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থানের ওপর আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী কবির দুই দেশের মধ্যে হালাল সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সর্বোপরি, প্রতিমন্ত্রী কবির একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির দিকে সম্পর্ককে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য প্রতিমন্ত্রী কবিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপমন্ত্রী আনিস মাতা বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই লক্ষ্যে, তিনি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে অগ্রাধিকারমূলক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি জনগণের মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানোর জন্য ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করেন। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য উপমন্ত্রী মাত্তার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী কবির।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী কবির ইন্দোনেশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে, তিনি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এর সদস্যপদ এবং বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। উপমন্ত্রী মাত্তা এসব বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং নিজ নিজ রাজধানীতে নিযুক্ত বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমাইউন কবিরের আমন্ত্রণে উপমন্ত্রী আনিস মাতা ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সফরে বাংলাদেশে
প্রকাশক ও সম্পাদক এ.এম.সারোয়ার জাহান
অফিস ঠিকানা: রোড ০৩, বাড়ি ২৩/১, বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা ১২১৪
দেশবাংলা প্রতিদিন