
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়বে। তবে শুধু প্রযুক্তির সরঞ্জাম শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দিলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষকদের এআই ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে Education House at UNGA 81 আয়োজিত ‘Empowering Teachers in Low-Resource Classrooms to Co-Design EdTech for Student-Centered Learning’ শীর্ষক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তিকে কোনোভাবেই শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং শিক্ষকের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক মাধ্যম। বিশেষ করে যেসব শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা নেই, সেখানে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকেন, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন, শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা ও শেখার ধরন বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তিকে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে সমন্বয় করা গেলে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি সরবরাহ করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের বাস্তব পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল এবং স্থানীয় চাহিদাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বৈশ্বিক সংলাপে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মালদ্বীপের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ মোহামেদ, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) মহাসচিবের কার্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালেক্স ওয়ং এবং ইউনেস্কোর পলিসিজ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিং সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক বোরহানে চাকরুন।
এদিকে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত ‘From Classroom to Economy: Modernizing Bangladesh’s Education and Skills—Turning Learning into Jobs, Enterprise and Economic Strength’ শীর্ষক আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সেখানে তিনি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা এবং কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক এ.এম.সারোয়ার জাহান
অফিস ঠিকানা: রোড ০৩, বাড়ি ২৩/১, বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা ১২১৪
দেশবাংলা প্রতিদিন