

মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত করতে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও (SCO) জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
RDMS-এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে রেফারাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের জন্য RDMS ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সিস্টেমটি সমন্বয়ের কাজও চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এই উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় RDMS তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে সহায়তা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
RDMS একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ও সহজ হবে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এতদিন এসব কার্যক্রমের বড় অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতো।
নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত সম্পন্ন, তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং রিয়েল-টাইমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও RDMS-এ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, RDMS চালুর ফলে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হবে।
RDMS উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক এ.এম.সারোয়ার জাহান
অফিস ঠিকানা: রোড ০৩, বাড়ি ২৩/১, বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা ১২১৪
দেশবাংলা প্রতিদিন