

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ও একটি ডাকাতি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেল ও রাতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাদের পৃথক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবু হাসনাত শাখাওয়াত হাসান ডাঃ জীবনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সাদিক মিয়ার আপন বড় ভাই শাহিনুর (শানুর) মিয়াকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কী কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গ্যানিংগঞ্জ বাজার (নতুন বাজার) এলাকায় অভিযান চালিয়ে এএসআই মোস্তাক ফকিরের নেতৃত্বে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী ছালেক মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জিআর মামলা নং-১৪০/২৪, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারনির ১০(ক) ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছালেক মিয়া ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে ইয়াবাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। এছাড়া হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ কয়েকবার গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মামলায় কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে ছালেক মিয়া পুনরায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তার মাধ্যমে এলাকায় আরও কয়েকজন খুচরা মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ছালেক মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের পাড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দেওয়ান বাড়ির আছকির মিয়ার ঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। ওসি শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই মহসিনসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনু মিয়ার ছেলে একাধিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, তাকে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরপর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আজমল মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, আজমল মিয়াকে এর আগেও ইয়াবাসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার করে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকায় মাদক ব্যবসার কারণে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে।
এদিকে স্থানীয়দের ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ভোররাতে পাড়াগাঁও মহল্লার এক ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৪ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাড়াগাঁও মহল্লার নোয়াহাটি মসজিদের সামনে থেকে এসআই মহসিনের নেতৃত্বে পুলিশ শাহিনুর (শানুর) মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শানুর মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মহল্লার বাসিন্দা মৃত আবুল মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতির শিকার ইতালি প্রবাসীর বাড়ির পাশে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, শানুর মিয়া এর আগে শায়েস্তাগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চুরি ও ডাকাতির সময় জনতার হাতে আটক হয়ে এসব মামলায় কারাভোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শানুর মিয়াকে থানায় নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাকে কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। তবে এ বিষয়ে শানুর মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, বুধবার দিন-রাতের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আজমল মিয়া, ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির মামলায় জুয়েল মিয়া এবং পূর্বের মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছালেক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের পৃথক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ডাকাতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের দেশমূখ্যপাড়া মহল্লার লুকু মিয়া (৩৫) নামে এক হত্যা মামলার আসামিকেও আটক করা হয়েছে।
শানুর মিয়াকে আটক ও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোন ও সরকারি মুঠোফোন নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওসি শেখ নাজমুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাটাগরি: হবিগঞ্জ | আইন ও অপরাধ
ট্যাগ: বানিয়াচং, হবিগঞ্জ, বানিয়াচং থানা, ইয়াবা, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাতি, গ্রেপ্তার, শানুর মিয়া, জুয়েল মিয়া, ছালেক মিয়া, আজমল মিয়া, পুলিশ অভিযান
প্রকাশক ও সম্পাদক এ.এম.সারোয়ার জাহান
অফিস ঠিকানা: রোড ০৩, বাড়ি ২৩/১, বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা ১২১৪
দেশবাংলা প্রতিদিন