Wednesday , October 24 2018
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / সারাদেশ / এমপি হওয়ার পর এনাম মেডিকেলে চিকিৎসার ফি বেড়েছে কয়েক গুণ
এমপি হওয়ার পর এনাম মেডিকেলে চিকিৎসার ফি বেড়েছে কয়েক গুণ

এমপি হওয়ার পর এনাম মেডিকেলে চিকিৎসার ফি বেড়েছে কয়েক গুণ

মিঠুন সরকার : রানা প্লাজা ধসে আহতদের সেবা দিয়ে ক্রেডিট পান এনাম মেডিকেল কলেজ। সে সময় মেডিকেলটির সেবার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদন ছাপা হয় তাতেই জাতীয় সংসদের সদস্য বনে যান ডা. এনামুর রহমান।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর চিকিৎসা সেবার নামে গলাটাকা ফি আদায় করেন তিনি। সেবার নামে আগে থেকেই অতিরিক্ত ফি আদায় করে মেডিকেলটি। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার নামে প্রতি রোগীর কাছ থেকে কয়েক গুণ অর্থ আদায় করে থাকেন মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটি শত শত দালাল নিয়োগ করেছে। মানুষ অসুস্থ হলেই দালাল চক্র নানা সুবিধার কথা বলে এনাম মেডিকেলে এনে ভর্তি করে। রোগীর কাছ থেকে গলাটাকা ফি আদায় করে সেই অর্থের ২৫ ভাগ দালালদের দিয়ে থাকেন মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা: আনোয়ারুল কাদের নাজিম ও আশরাফ উল্লাহ চৌধুরী সাইফুল বলেন, ‘হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারলে তারা এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে কেন চিকিৎসার জন্য আসেন।

অন্য কোথাও তো যেতে পারে।’ ডা: আনোয়ারুল কাদের নাজিম ও আশরাফ উল্লাহ চৌধুরী সাইফুল হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারলে রোগীর স্বজনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গত ১৪ জুলাই প্রসব বেদনার কারণে স্ত্রী হ্যাপি আক্তারকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করান স্বামী আনিসুর রহমান।

পরে টানা নয়দিন ভর্তি থাকার পর ২৫ জুলাই হ্যাপি আক্তারের সিজারের মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম নেয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট নবজাতক ও মা সুস্থ থাকার পর হাসপাতালের বিল ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় প্রায় দুই মাস ধরে তাদের নজরদারিতে রাখার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে হাসপাতালের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদেরকে আর যেতে দেওয়া হয়নি।

আশুলিয়ার শিমুলিয়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি শঙ্কর সূত্রধরের অভিযোগ, গত ৩ নভেম্বর তার স্ত্রী ও নবজাতককে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ভর্তি করা হয়। বিল পরিশোধ করতে না পারায় শিলাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউতেই আটকে রাখে।

শঙ্কর বলেন, হঠাৎ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করে। পরে রাতেই শিলা সূত্রধর মারা যান। রোগী মারা যাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যেতে বলে কর্তৃপক্ষ। পরে লাশ আটকে রাখার খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ছুটে গেলে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে।

এ ছাড়া টাকা দিতে না পারায় শিলার শিশু সস্তনকে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতালের চিকিৎসক শিরিন আক্তার। সেলিম মিয়া নামের অগ্নিদগ্ধ এক যুবক চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাকে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংসদ সদস্য হওয়ার পর এনাম মেডিকেলের ফি বাড়ানো হয়।

নাম প্রকাশ না করে সাভার পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমপি হওয়ার পর চিকিৎসার ফি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন তিনি। ১০ হাজার টাকা হলে ২০ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়। কেউ ছাড় চাইলেও টাকা মওকুফ করা হয় না। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এনামুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর এনাম মেডিকেলের ফি বাড়ানো হয়নি।

এমনকি হাসপাতালে রোগী আনার ক্ষেত্রে কোনো দালালও নিয়োগ দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। তবে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমজাদুল হক বলেন, বিল পরিশোধ করতে না পারলে মৃতদেহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটকে রাখতে পারবে না। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ ছাড়া বিনা চিকিৎসায় অথবা অবহেলায় রোগী মারা গেলে সে বিষয়েও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

নরসিংদী জেলার রায়পুরায় জন্ম নেয়া ডা. এনামুর রহমান সাভার সরকারী হাসপাতালে আরএমও হিসেবে যোগ দেন। সাভার হাসপাতালে যোগ দিয়েই চিকিৎসা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সে সময় সাভারে একটি ওষুধের দোকান দিয়ে সেখানেই রোগী দেখার চেম্বার খোলেন। ১৯৯০ সালে তাকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ায় বদলি করা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সাভারের মুক্তির মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেন এনাম ক্লিনিক। এরপর ডা. এনাম অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন এনাম ক্লিনিক।

বিএনপি সরকারের আমলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানের সাথে সখ্যতা ছিলো তার। ২০০১ সালের পর বিএনপি সরকার অনুমোদন দেয় এনাম মেডিকেল কলেজ’র। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর এনাম মেডিকেল কলেজের সহায়তা প্রদান করে আহতদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডা: এনাম পেয়ে যান সাংসদের টিকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*