Thursday , January 18 2018
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / সারাদেশ / সাভারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক
সাভারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক

সাভারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক

সাভার প্রতিনিধি: সাভারে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার, গাঁজাসহ মাদকদ্রব্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন এমনকি মহিলারাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আসক্ত হওয়ার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। নানা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে, কখনও ‘ম্যানেজ’ করে, বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রি। এ এলাকার শতাধিক যুবক ভ্রাম্যমাণ মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত। তাদের বিভিন্ন মার্কেট কিংবা শপিং মলের সামনে আনাগোনা করতে দেখা যায়। এ চক্রটি বিভিন্ন স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ব্যবসার সাথে রাজনৈতিক দলের অনেকেই জড়িত। ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের এরশাদনগরের নাকালিয়াপাড়ার চাপাটি আরিফ সাভারে ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। সাভারের বেদে পল্লীতে পুলিশী অভিযান না থাকায় বেড়েছে মাদকের ব্যাপকতা। বেদেপাড়ায় প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা হলেও প্রশাসন নীরব ভ’মিকা পালন করে আসছে। ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য তৎপরতা চালালেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এ ব্যবসা। পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখেই কেউ কেউ গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। কথিত সুশীলের বেশে তারা মাদক ব্যবসা করে বিত্তশালী হয়েছে। সম্প্রতি চাপাটি আরিফের ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ইতিপূর্বে আশুলিয়া থানা যুবলীগ নেতা মনসুর মাদবর কে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে জেল হাজতে দিয়েছিল। কিন্তু অনেকেই রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ প্রশাসনের সাথে রয়েছে চাপাতি আরিফের সুসম্পর্ক। মাদক ব্যবসার সাথে সাথে জড়িত জেনেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না। উভয় পক্ষ মিলেমিশে কারবার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ধারীরা মাদক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও জানা গেছে। বাড্ডা ভাটপাড়া এলাকার নারী মাদক ব্যবসায়ী পারভীন আক্তার জামিনে বেড়িয়ে এসে আবারো শুরু করেছে মাদক ব্যবসা। ফলে মাদকের ভয়াবহ থাবায় যুব সমাজ ক্ষতবিক্ষত। মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসা এবং পেশার আড়ালে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রটি নারীদের মাদক ব্যবসার টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতিপূর্বে আশুলিয়া থানা মহিলা যুবলীগের আহবায়ক নাজমুন নাহার কাজলকে তার বাসা থেকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন আশুলিয়া এলাকার ভুয়া সাংবাদিক সারোয়ার হোসেন। তিনি সাংবাদিকতার লেবাসে ইয়াবা ব্যবসা করতো বলে পুলিশ জানায়। সাভারের বনপুকুর এলাকার বিল্লাল হোসেন ওরফে মাদক বিল্লাল দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গত ৪ ডিসেম্বর সাভার পৌরসভাধীন জামসিং মহল্লার একটি বিউটি পার্লার থেকে এক আইনজীবীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও পার্লারের মালিক রুমানাকে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। এ চক্রটি বিউটি পার্লারের আড়ালে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করতো বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে তার চেয়ে কয়েক’শ গুণ বেশি মাদক বেচা কেনা হয়। মাঝে মধ্যে অভিযানে কিছু সংখ্যক মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও এ ব্যবসার মূল হোতারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ায় তিন শতাধিক মাদক স্পট এবং বহু ভ্রাম্যমাণ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। ইয়াবা ট্যাবলেট পকেটে করে বহন করা যায় বিধায় ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েই চলছে। এতে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অলিগলি ইয়াবা ট্যাবলেটে সয়লাব হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কিছু অসৎ্ কর্মকর্তা কিংবা সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেয়। তাই তাদের এ ব্যবসা চালাতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অপর দিকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে অনেক বখাটে যুবক ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করেই গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছে। ক্রয় করেছে অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। পুলিশ এ ব্যাপারে জ্ঞাত হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই শিল্পাঞ্চলটিতে বিভিন্ন পেশার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছাত্রছায়ায় থাকার কারণে আনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। সাভার উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রতি পাড়া মহল্লা ও অলিগলিতে মরণ নেশা ইয়াবায় ছেয়ে গেছে। নেশাগ্রস্থ যুবকরা ছিনতাই, রাহাজানি, চুরি, ডাকাতিসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে। পরিবারে নেমে আসছে অশান্তি। পড়াশুনা বাদ দিয়ে তরুণ যুবকরা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ায় দারুণভাবে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এ ব্যবসা বরং দিন দিন আরো বেড়েই চলছে। সাভারে চিহ্নিত স্পটে মাদক বেচাকেনার হাট বসলেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন থাকে নিশ্চুপ। সাভার সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, মাদক সেবনের ফলে তরুণ-তরুণীদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে আগামী প্রজন্ম। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির মাদকের ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না। মাদক একটি ব্যাধির মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি নির্মূলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*