Monday , December 11 2017
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / শিক্ষাঙ্গন / ঘুরে এলাম তেওতা জমিদার বাড়ি
ঘুরে এলাম তেওতা জমিদার বাড়ি

ঘুরে এলাম তেওতা জমিদার বাড়ি

সনজিৎ সরকার উজ্জ্বল:  বাংলাদেশ জার্নালিজম স্টুডেন্টস কাউন্সিল (বিজেএসসি)  এর একটি প্রতিনিধি দল ঈদের ছুটিতে তেওতা জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে যান। এ টিমের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সনজিৎ সরকার   উজ্জ্বল,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উজ্জ্বল হোসেন সায়েম ও জিসান রবিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরিফ হোসেন সবুজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এম. সুমন মাহমুদ।

বিজেএসসির প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণে জমিদার বাড়িটি সংক্ষরণে কর্তৃপক্ষের অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। এ ঐতিহাসিক স্থাপনা টিকিয়ে রাখার জন্য জমিদার বাড়িটির যথাযথ পরিচর্যা প্রয়োজন। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের অদূরে পদ্মার পাড়ে শতবর্ষ আগে গড়ে উঠা জমিদার বাড়িটি পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে। যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত তেওতা জমিদার বাড়ি। এ প্রাসাদেই নজরুল, প্রমীলা দেবীর প্রেমে পড়েন ও লিখেছিলেন, ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ’।

নজরুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন কুমিল্লার আশালতা সেনগুপ্তকে। বিয়ের পর আশালতার নতুন নামকরণ করা হয় প্রমীলা নজরুল। নজরুলের এ বিয়ে ছিল প্রেমের। ‘ হে মোর রাণী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।’ এ প্রমীলা দেবীর সঙ্গে কবি নজরুলের প্রথম দেখা হয়েছিল মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা জমিদার বাড়ির প্রাসাদেই।

ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরশ শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামের এক জমিদার। জনশ্রুতি আছে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন। দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করেন জয়শংকর ও হেমশংকর নামের দুই ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭.৩৮ একর জমি নিয়ে স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর। প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নটমন্দিরও রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে নবরত্ন মঠ ও আর বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি।

তেওতা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি। বাড়িটি এখন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি উপজেলার তেওতা নামক গ্রামে অবস্থিত।

 

লেখক: সনজিৎ সরকার উজ্জ্বল, সভাপতি, বিজেএসসি এবং ইউস্যাড।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*