Sunday , July 22 2018
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / সারাদেশ / আশুলিয়ায় কাঙ্গালী ভোজে খাবার পেলো না অসহায় গরীবরা, খেলেন নেতাকর্মীরা
আশুলিয়ায় কাঙ্গালী ভোজে খাবার পেলো না অসহায় গরীবরা, খেলেন নেতাকর্মীরা

আশুলিয়ায় কাঙ্গালী ভোজে খাবার পেলো না অসহায় গরীবরা, খেলেন নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার : ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শনিবার আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবরের উদ্যোগে আয়োজিত আওয়ামীলীগের দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজের অনুষ্ঠানের খিচুড়ি গরীব দুখীদের না দিয়ে তাদের সামনেই নেতা-কর্মীরা খেয়ে ফেললো।

আর যাদের উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের নাম হয়েছে কাঙ্গালী ভোজ সেই হতদরিদ্র নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা থাল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে খিচুরী খাওয়া দেখলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে আশুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয় দোয়া, আলোচনা সভাসহ কাঙ্গালী ভোজের। এ উপলক্ষে দুপুরের পর থেকেই ওই অনুষ্ঠানে হাজারো নেতাকর্মীরা জড়ে হতে থাকে।

এমনকি কলেজ সংলগ্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ১২টার পর থেকে ক্লাস বন্ধ করে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের সাথে স্থানীয় বিভিন্ন গরীব ও নিম্মবিত্ত শ্রেণীরে লোকজনও অনুষ্ঠানস্থলে ছুটে আসে। এর পর শুরু করা হয় অনুষ্ঠানটি। একে একে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বক্তব্য দিতে শুরু করে।

পরে দুপুর তিনটার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে দোয়ার আয়োজন করা হয়। এর পরই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত নেতাকর্মীদের মধ্যে কাঙ্গালী ভোজের খিচুরী বিতরন শুরু করা হয়। আয়োজক কমিটির লোকজন মুহুর্তের মধ্যেই নেতাকর্মীদের হাতে হাতে প্লেট ও খাবার পৌছে দেয়। তবে হতদরিদ্র, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও ভিক্ষুকদের মধ্যে খাবার দেওয়া হয়নি।

এমনকি কয়েকজন বয়স্ক বৃদ্ধা খাবারের জন্য ছুটে গেলেও তাদেরকে ফিরিয়ে দেয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। অবশেষে খাবার না পেয়ে প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাদের। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরাও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে বাধ্য হয়ে খাবারের আশায় দাড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘসময়।

সুফিয়া খাতুন নামের পঞ্চাষোর্ধ এক বৃদ্ধা বলেন, সে তার তিন বছরের নাতিনকে নিয়ে কাঙ্গালী ভোজের অনুষ্ঠানে এসেছেন। এখানকার লোকজনই তাদেরকে খিচুরী খাওয়ার জন্য আসতে বলেছেন অথচ সবাই খাবার খাচ্ছে আর তাদেরকে নিরবে দাড়িয়ে থেকেই দেখতে হচ্ছে।

একই রকম অভিযোগ করে হাজেরা খাতুন বলেন, তারা আশুলিয়া থাকেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন গরীবদের জন্য কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেছে। এমন খবর শুনেই তিনিও অনুষ্ঠান স্থলে ছুটে আসেন। অথচ সবাই খাবার পেলেও তাদের মতো হতদরিদ্ররা খাবারের অপেক্ষায় বসে ছিল। প্রায় তিনঘন্টা বসে থেকেও শেষ পর্যন্ত খাবার না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান।

তবে এসব বিষয়ে সভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার বলেন, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। এই দিনে পরিবারের সদস্যসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তাই প্রতিবছর ১৫ আগষ্টে শোক দিবসে তারা গরীব দু:খীদের মধ্যে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করে।

তবে কাঙ্গালী ভোজ নামটি অন্য রকম দেখা যায় বলে তারা অনুষ্ঠানের নাম দোয়া ও আলোচনা সভা রেখেছেন। গরীব ও নিম্মবিত্তদের জন্য আয়োজনের ভোজে তারাই খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুষ্ঠাননি আয়োজন করেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন মতব্বর। তবে পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে সবারই খাবার পাওয়ার কথা। তবে কিভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা তার জানা নেই।

এ বিষয়ে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন মাতব্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ধামরাই উপজেলার সাবেক সাংসদ সদস্য বেনজীর আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, আসলে ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এ কারনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে তিনি রাজী হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*