Saturday , August 18 2018
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / সারাদেশ / শহীদ দিবসের অমর্যাদা করায় বেগম খালেদার কঠোর সমালোচনা
শহীদ দিবসের অমর্যাদা করায় বেগম খালেদার কঠোর সমালোচনা

শহীদ দিবসের অমর্যাদা করায় বেগম খালেদার কঠোর সমালোচনা

দেশবাংলা প্রতিদিন ডেস্ক:  শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সদলবলে মূল বেদীতে উঠে পড়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উনিতো শহীদ দিবসের মর্যাটাই নষ্ট করে দিয়ে আসলেন। আজ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া এবার যে অপকর্মটা করে আসলেন- আমাদের অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবসের মর্যাটাই নষ্ট করে দিয়ে আসলেন। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে রাষ্ট্রপতি, তিনি এবং স্পিকারসহ আরো অনেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, বিএনপি নেত্রী সদলবলে ঠিক ওই জায়গাটায় উঠে দাঁড়িয়ে গেছেন ফুল দিতে। ’ শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, মূল বেদীর ওপর ফুল দেওয়ার স্থানে যদি উঠে দাঁড়িয়ে যান তাহলে ফুলটা দিলেন কোথায়? নিজের পায়ের কাছে দিয়ে আসলেন, সেটাই প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা শহীদ মিনারের বেদীতে উঠে যায়। জানে না, কোথায় ফুল দিতে হবে। এ দেশের সংস্কৃতির মর্যাদা তারা কি করে দেবে, দিতে পারে না। কারণ, তাদের মনেতো স্বাধীন বাংলাদেশ নাই। তাদের মনেতো রয়ে গেছে ১২০০ মাইল দূরের পেয়ারে পাকিস্তান। ’

তিনি বলেন, আমার আরো দুঃখ লাগে কারণ, সাংবাদিকরা ওই জায়গাটায় (মূল বেদীতে) আগে ছবি তোলার জন্য উঠে দাঁড়াতো দেখে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এবং নিজেও উদ্যোগ নিয়ে সেই বরাবর পেছনে একটি মাচা তৈরির ব্যবস্থা করি। যেখান থেকে শহীদ মিনারের বেদীতে না দাঁড়িয়েই তারা ছবি তুলতে পারেন। শহীদ মিনারের বেদীর পেছনে থাকা পলাশ ফুল গাছটির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থেকে চারা এনে সেখানে ওই গাছ লাগিয়েছিলাম, যেখানে আজ পলাশ ফুল ফোটে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, যদিও তারা বলছেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়, কিন্তু এখনতো ক্যামেরায় সব কিছু ধরা পড়ে। ওইখানে সিসি ক্যামেরাও ছিলো এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরাও ছিল, তার দলের লোকেরাও ছবি তুলেছে। এটাতো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো দেখা যাচ্ছে, তারা কি করেছেন।

এ সময় মধ্যরাতে যাবার কারণে বেগম জিয়ার ভুল হলেও দলের নেতা-কর্মীরা কেন তার নজরে বিষয়টি আনেননি, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অতীতে উনি যেতেন বেলা ১১টার দিকে ফুল দিতে। তখন কিন্তু ওই বেদীর ফুল তুলেও ওনার দলের নেতা-কর্মীরা তার ওপর বর্ষণ করতো। এটা নিয়ে যখন লেখালেখি হলো তখন তা বন্ধ হলো। ’

সরকার প্রধান বলেন, আর ভাষার প্রতিতো তাদের কোন সম্মানই নাই। কারণ, তারা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃতি করেছে। তা না হলে ওই শহীদ মিনার যাকে পবিত্র জায়গা আমরা মনে করি, যে শহীদ ভাইয়েরা বুকের রক্ত দিয়ে আমার মাকে মা বলে ডাকার সুযোগ করে দিয়েছে, তার বেদীর ওপর কিভাবে দলবল নিয়ে উঠে গিয়ে সেই স্থানকে অপবিত্র করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রশ্ন উত্থাপন সম্পর্কে বলেন, আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য যে, একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যের বিরুদ্ধে যখন আমাদের দেশের কেউ বলে যে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক মারা যায় নাই। পাকিস্তানিরা না হয় বলতে পারে। কারণ, তারা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু যিনি এ দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত নেতা হয়ে গেছেন, দু’বারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কিভাবে এ কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*