Sunday , July 22 2018
সর্বশেষ সংবাদ :
Home / সারাদেশ / সাভারে সওজের জায়গায় সিটি ফার্মাসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা নির্মান
সাভারে সওজের জায়গায় সিটি ফার্মাসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা নির্মান

সাভারে সওজের জায়গায় সিটি ফার্মাসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা নির্মান

মিঠুন সরকার : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের জমি দখলের হিড়িক পড়েছে। জনগনের চলাচলের রাস্তা, ফুটপাত, ফুট ওভারব্রীজ, বাসষ্ট্যান্ড, যাত্রী ছাউনি কোন কিছুই বাদ পড়ছেনা দখলবাজদের কবল থেকে। প্রতিনিয়ত প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কিছু ঘটে চললেও দেখার যেন কেউ নাই। নিরব ভুমিকা পালন করছে প্রশাসন। বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার এসব দখলের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করায় দখলবাজরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ও জনপথের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব দখল কার্যক্রম। প্রতিমাসে এসব অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্গের মাসোহারা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের পকেটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডের আধুনিক শপিং মল সাভার সিটি সেন্টারের দক্ষিন কোনে সিটি ফার্মা ও উত্তর কোনে আরেকটি ছাদ দিয়ে পাকা স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে নির্মান কাজ শেষ করে দোকানের শাটার লাগানো হয়েছে। এর পাশেই জনগনের চলাচলের ফুট ওভার ব্রীজটি দখল করে নির্মান করা হয়েছে একাধিক দোকান। যার কারনে সাধারন মানুষেরর চলাচল এবং ফুটওভার ব্রীজটি ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী জানান, আমি ফুটপাতে ফল বিক্রী করে সংসার চালাতাম। কিন্তু সাভার সিটি সেন্টারের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাবেক ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর রহমান অভি সেখানে পুলিশ বক্স নির্মানের কথা বলে আমাকে উচ্ছেদ করে এবং পরবর্তীতে পাকা দোকান ঘর নির্মান করছে।
তবে ওবায়দুর রহমান অভি সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মান হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, এগুলো আমি করছি না, পুলিশরা করছে। যার সবকিছু বেদেপাড়ার সমাজকল্যান সংস্থার রমজান আহম্মেদ জানেন।
এছাড়া সরকারী মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিউট এর সীমানা প্রাচীর ঘেষে পাঁকা স্থাপনা ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে আরও বেশ কিছু দোকানঘর। যা টিকিট কাউন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব দোকান থেকে অগ্রীম টাকা নেয়ার পাশপাশি আদায় করা হচ্ছে মাসোহারা। সবকিছু চোখের সামনেই ঘটে চললেও দেখার যেন কেউই নাই।
এদিকে সরকারী জমি ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুলোতে অর্থের বিনিময়ে খুব সহজেই বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যে কারনে দখলদাররা আরও উৎসাহিত হয়ে পড়ছে দখলের প্রতিযোগীতায়।
একই রকম চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সাভারের রেডিও কলোনী, শিমুলতলা, পাকিজা সামনে পাকিজা কর্তৃপক্ষও দখলে নিয়েছে সড়ক ও জনপথের জায়গা। এছাড়া থানা বাসষ্ট্যান্ড, গেন্ডা বাজার, রাজাবাড়ি, উলাইল, আমিনবাজার এলাকায়ও একই চিত্র। প্রতিটি জায়গাতেই অবৈধ দখলবাজরা পাঁকা ও আধাপাঁকা দোকানঘরসহ বাজার নির্মান করে মোটা অঙ্কের অগ্রীম টাকা গ্রহন করে আদায় করছে মাসোহারা। উত্তোলনকৃত এসব চাঁদাবাজির টাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেট ভারী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে এবং দখলদাররা তাদের দখল কার্যক্রম জোড়েসোড়েই চালিয়ে যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সামসুজ্জোহা জানান, সওজের জায়গায় কোন পাকা স্থাপনা তৈরীর নিয়ম নেই। তবে লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*